নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যশোর সদর উপজেলার শহরতলীর শংকরপুর এলাকার ‘গারে হেরা দারসূল কুরআন আইডিয়াল মাদ্রাসা’র পরিচালক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ না করা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অগ্রিম বেতনসহ বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়ার পর উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিচালকের অনুপস্থিতিতে মাদ্রাসার কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১২ জন শিক্ষকের প্রায় আড়াই লাখ টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসার ভবন মালিকের প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবকের কাছ থেকেও অগ্রিম বেতন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালক ইমরান হোসেন সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি হঠাৎ মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের ও বাসি খাবার পরিবেশন করা হতো। এমনকি কোনো কোনো খাবারে ইঁদুরের মল পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক সময় পোকাযুক্ত বা নিম্নমানের চাল, ডাল ও আলু ভর্তাসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হতো। মাদ্রাসার পাশের ময়লা-আবর্জনা ও বাথরুমের পানি যাওয়ার স্থান থেকে কচুর লতি ও শাকসবজি সংগ্রহ করে রান্না করে খাওয়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার খাবারের মেনুতে মাছ ও মাংসের উল্লেখ থাকলেও আবাসিক শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তা নিয়মিত পেত না। কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তারা নিয়মিত মাছ-মাংস খাওয়ার সুযোগ পায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় খাবার পচা ও বাসি থাকত। বাধ্য হয়ে তারা সেই খাবারই খেত। কোনো কোনো খাবারে ইঁদুরের মল থাকার বিষয়ও তারা দেখেছে বলে দাবি করেছে।
পরিচালকের অনুপস্থিতিতে মাদ্রাসার দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসা মাওলানা শাহজান বাবুকে নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে ওই অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের শেষ সময়ে পরিচালকের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও আবাসিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অগ্রিম বেতনসহ বিভিন্ন খাতে টাকা দেওয়ার পরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার পরিচালক ইমরান হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা মাদ্রাসার আর্থিক লেনদেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম অর্থ, শিক্ষকদের বকেয়া বেতন, ভবন ভাড়া এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অগ্রিম নেওয়া অর্থ এবং শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা।
মতামত