ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক বন্ধন

মাকেগলা কেটে হত্যার মামলার আসামি সাবেক শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু

মাকেগলা কেটে হত্যার মামলার আসামি সাবেক শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু



মাকেগলা কেটে হত্যার মামলার আসামি সাবেক শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু
দৈনিক বন্ধন

যশোরে বটি দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) কারা হেফাজতে মারা গেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে খুলনার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহমেদও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মামুনুর রশিদ মামুন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি ছিলেন। তাঁর হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। রোববার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কারারক্ষীরা তাঁর পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়েছে।

মামুন যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।

মামুনের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজের মা আনোয়ারা বেগমকে (৫৮) ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনা। পারিবারিক কলহের জেরে দুটি সংসারই ভেঙে যায়। এ জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এ নিয়ে আগে মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে ফেরেন। ওই দিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল।

কারা হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক বন্ধন

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মাকেগলা কেটে হত্যার মামলার আসামি সাবেক শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যশোরে বটি দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) কারা হেফাজতে মারা গেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে খুলনার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।


খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহমেদও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মামুনুর রশিদ মামুন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি ছিলেন। তাঁর হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। রোববার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কারারক্ষীরা তাঁর পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়েছে।


মামুন যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।


মামুনের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজের মা আনোয়ারা বেগমকে (৫৮) ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনা। পারিবারিক কলহের জেরে দুটি সংসারই ভেঙে যায়। এ জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এ নিয়ে আগে মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তাঁরা।


স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে ফেরেন। ওই দিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।


চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল।


কারা হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।


দৈনিক বন্ধন

সম্পাদক ও প্রকাশ কর্তৃক প্রকাশিত
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আশিকুজ্জামান
বার্তা সম্পাদকঃ রায়হান হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত