যশোরের শহরের বকুলতলায় গরিব শাহ মাজারের সামনে অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ গভীর রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১ নভেম্বর) শেষ রাতে স্মৃতিস্তম্ভটির দক্ষিণ অংশে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ করেছে। এর আগে সকালে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্মৃতিস্তম্ভটি পর্যবেক্ষণ করেন।
সরেজমিনে ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভটির দক্ষিণ পাশে নিচ থেকে প্রায় ছয়-সাত ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আগুনে পোড়া কালো দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। আগুন লাগানোর পর সেটি মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গভীর রাতে তিন যুবক স্মৃতিম্ভটির সামনে আসেন। তাদের মধ্যে দুজন পেট্রোল বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ঢেলে নিচের অংশটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় অপরজন মুঠোফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
এদিকে জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার দৃশ্যটি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যশোর জেলা যুবলীগের নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মতামত