ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক বন্ধন

অবহেলিত হচ্ছে কৃষি জমি বাড়ছে খাদ্য সংকট



অবহেলিত হচ্ছে কৃষি জমি বাড়ছে খাদ্য সংকট

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সাথে কৃষির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কোটিপতির সকালের জ্যাম-পাউরুটি থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের জাউভাত—বেঁচে থাকার জন্য যাদেরই খাদ্যের প্রয়োজন, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের থালায় অন্ন জোটে, সেই কৃষকদের ভুলে গিয়েই আমরা জীবনযাপন করছি।

দিন দিন কৃষকের সংখ্যা কমছে আর ভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। ফলে আকাশচুম্বী হচ্ছে দ্রব্যমূল্য, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যে ভেজাল। পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিকিৎসার খরচ জোগানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা আজ জমির দাম বাড়াচ্ছি আর কৃষকের শ্রমের মূল্য কমাচ্ছি। ফসলি জমি দখল করে যদি শুধু দালানকোঠাই গড়ে তুলি, তবে আমরা বাঁচব কী খেয়ে?

এ কারণেই আজ কোনো কৃষক তার সন্তানকে এই পেশায় আনতে চান না। আমাদের নতুন প্রজন্ম কৃষিকাজ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না; হয়তো আগামী দিনগুলোতে কৃষি শুধু ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

যে কৃষক একসময় বুক ভরা সাহস নিয়ে মাঠে নামত, সে আজ প্রতিনিয়ত শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির ভয়ে ফসল ফলাতে ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল ঘরে তুলতে ভয়, আর শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখার ভয়। এই নানামুখী ভয়ের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই কৃষক তার ঘাম ঝরানো ফসল মহাজনের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। আর সেই মহাজনরা কয়েক গুণ বেশি দামে তা বাজারে বিক্রি করে। ফলে একদিকে উৎপাদক কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তা হিসেবে আমরাও হচ্ছি শোষিত।

এসব কেন ঘটছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? কারণ আমরা কৃষকদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। কিন্তু এই দায় কি শুধু সরকারের? সরকার তো আমরাই! কৃষক কেবল সরকারের একার নয়; এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের, আপনার এবং আমার—সবার।


লেখকঃমোঃ রুহুল আমিন,সমাজকর্মী 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক বন্ধন

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


অবহেলিত হচ্ছে কৃষি জমি বাড়ছে খাদ্য সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সাথে কৃষির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কোটিপতির সকালের জ্যাম-পাউরুটি থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের জাউভাত—বেঁচে থাকার জন্য যাদেরই খাদ্যের প্রয়োজন, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের থালায় অন্ন জোটে, সেই কৃষকদের ভুলে গিয়েই আমরা জীবনযাপন করছি।

দিন দিন কৃষকের সংখ্যা কমছে আর ভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। ফলে আকাশচুম্বী হচ্ছে দ্রব্যমূল্য, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যে ভেজাল। পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিকিৎসার খরচ জোগানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা আজ জমির দাম বাড়াচ্ছি আর কৃষকের শ্রমের মূল্য কমাচ্ছি। ফসলি জমি দখল করে যদি শুধু দালানকোঠাই গড়ে তুলি, তবে আমরা বাঁচব কী খেয়ে?

এ কারণেই আজ কোনো কৃষক তার সন্তানকে এই পেশায় আনতে চান না। আমাদের নতুন প্রজন্ম কৃষিকাজ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না; হয়তো আগামী দিনগুলোতে কৃষি শুধু ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

যে কৃষক একসময় বুক ভরা সাহস নিয়ে মাঠে নামত, সে আজ প্রতিনিয়ত শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির ভয়ে ফসল ফলাতে ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল ঘরে তুলতে ভয়, আর শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখার ভয়। এই নানামুখী ভয়ের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই কৃষক তার ঘাম ঝরানো ফসল মহাজনের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়। আর সেই মহাজনরা কয়েক গুণ বেশি দামে তা বাজারে বিক্রি করে। ফলে একদিকে উৎপাদক কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তা হিসেবে আমরাও হচ্ছি শোষিত।

এসব কেন ঘটছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? কারণ আমরা কৃষকদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। কিন্তু এই দায় কি শুধু সরকারের? সরকার তো আমরাই! কৃষক কেবল সরকারের একার নয়; এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের, আপনার এবং আমার—সবার।


লেখকঃমোঃ রুহুল আমিন,সমাজকর্মী 


দৈনিক বন্ধন

সম্পাদক ও প্রকাশ কর্তৃক প্রকাশিত
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আশিকুজ্জামান
বার্তা সম্পাদকঃ রায়হান হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত