যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড এবং নাশকতামূলক তৎপরতা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন দলীয় নেতারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তফা আমির ফয়সাল। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটিকে আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরতে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার ৪২ বছর অপেক্ষা করলেও তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না।
একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পাশাপাশি ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে শহরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশ শেষে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতামত