যশোরের মনিরামপুর উপজেলাট ইত্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটার সময় পার্টি স্প্রের আঘাতে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (কৈফিয়ত তলব) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এস এম নূর-এ-এলাহী স্বাক্ষরিত ওই নোটিশ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কাউকে না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করেন সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এ সময় ব্যবহৃত পার্টি স্প্রের আঘাতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত ফারজানার চোখ জখম হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও অসদাচরণ ও কটূক্তির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই সাইফুল সাহেব নিজে নিজে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। এর দায়ভার তো আমাদের সবার ওপর এসে পড়ে।”
উপজেলার সিনিয়র সহকারী শিক্ষা অফিসার এস এম নূর-এ-এলাহী বলেন, “সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ তুলে পার্টি স্প্রে ব্যবহারের কারণে একটি শিশুর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর বাবা হযরত আলী বলেন, “আমার অবুঝ মেয়েটার জীবন আজ অন্ধত্বের মুখে। শিক্ষক হয়ে কেউ কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে? আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। তবে এমন একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যাবে, তা আমি কল্পনাও করিনি। বিষয়টি আকস্মিক ও অনভিপ্রেত।”
মতামত