আজ বিএনপির সাবেক জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, দক্ষিণ বাংলার অবিসংবাদিত জননেতা মরহুম জনাব তরিকুল ইসলাম চাচার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী।
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে।
রাজনৈতিক জীবনে তাঁর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা ছিল অসাধারণ। আমি যখন সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলাম, তখন তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সৌভাগ্য হয়েছিল ছাত্রদলের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার। আমি ছিলাম অনুষ্ঠানের সভাপতি, আর তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি।
সেদিন তাঁর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর দূরদর্শী বিশ্লেষণ আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাঁর সেদিনের অনেক বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন দেখেছি।
মরহুম আবেদুর রহমান কুয়াশা ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর চোখের পানি দেখেছিলাম। সেদিন উপলব্ধি করেছিলাম, একজন নেতা তাঁর কর্মীদের কতটা ভালোবাসতে পারেন।
পরবর্তীতে তাঁর অসুস্থতার সময় দেখা করতে গেলে তিনি বলেছিলেন, “দেশের এই ক্রান্তিকালে তোমাদের মতো ছাত্রদল নেতারাই পারবে এই ফ্যাসিস্টকে বিদায় করতে।”
তাঁর মধ্যে ভালোবাসা যেমন ছিল, তেমনি ছিল শাসন ও দিকনির্দেশনা। কর্মীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল।
আজ দক্ষিণবঙ্গে বিএনপির যে রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক ভিত্তি, তার অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রজন্মের অভিভাবক।
তাঁকে যথার্থই বলা হয় যশোর উন্নয়নের কারিগর।
যশোরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছুই বদলে যাবে, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, কর্ম ও অবদান যশোরবাসীর হৃদয়ে অম্লান থাকবে।
আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, প্রিয় তরিকুল ইসলাম চাচা।
আপনি বেঁচে থাকবেন আপনার কর্মে, আদর্শে এবং আমাদের স্মৃতিতে।