যশোরের সুপরিচিত খাবারের প্রতিষ্ঠান পাঁচফোড়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং একই ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস সংরক্ষণের মতো অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবারদুপুরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক সুমনা পালের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে অভিযানকারী দলটি যশোর শহরের এমকে রোডে অবস্থিত পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে যায়। পরে বিমান অফিস রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রান্নাঘরের পরিবেশ দেখে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রবের পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের বিভিন্ন অংশ ছিল স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন। এ ছাড়া রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থাও ছিল না। অভিযানকালে একই ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি একটি ফ্রিজে দীর্ঘদিনের পুরোনো মাংস পাওয়া যায়। পরে অভিযানকারী দলটি আবারও রেস্টুরেন্টে ফিরে এসে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এ সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সনদ, স্যানিটারি সনদ ও ফায়ার সার্ভিসের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়। এসব অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।এরপর অভিযানকারী দলটি যশোর শহরের দড়াটানায় অবস্থিত নিউ ভৈরব হোটেল ও জনি হোটেলে অভিযান চালায়। সেখানে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তবে গুরুতর কোনো অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়।অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহিবুর রহমানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।