যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির ম্যানেজার মো. জহুরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
হাসপাতালটির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স, ভুয়া চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীও তাঁদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। হুরগাতি গ্রামের ইয়াসমিনের অভিযোগ, হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে সেখানেই একটি পরীক্ষা করান তিনি। পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষা করালে আগের রিপোর্টে ভুল পাওয়া যায়।
লাউড়ি গ্রামের মাহফুজ অভিযোগ করেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইসমতারা মৌসুমি তাঁর রোগের বিস্তারিত না শুনেই পাঁচ থেকে ছয়টি পরীক্ষা লিখে দেন এবং সেগুলো করানোর নির্দেশ দেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ভুয়া চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অনুসন্ধানেও এসব অভিযোগ উঠে এসেছে।
এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালটির ম্যানেজার মো. জহুরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত জরুরি।