মজুরি বোর্ড গঠনে সন্তুষ্ট শ্রমিকরা, কাজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকেই আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) সহ শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কারখানাগুলোতে আবারও ফিরে এসেছে চেনা কর্মব্যস্ততা।
কারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ, স্বস্তিতে শ্রমিকরা
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকেই দল বেঁধে কারখানার দিকে রওনা হন শ্রমিকরা। ডিইপিজেড ও এর আশপাশের এলাকার পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানও চোখে পড়েছে।
শ্রমিক নেতাদের ইতিবাচক মূল্যায়ন
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তারা জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো মূল্যায়নের একটি আনুষ্ঠানিক পথ তৈরি হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখেই শ্রমিকরা উৎপাদনে ফিরেছেন।
সাধারণ শ্রমিকদের দাবি: 'ব্ল্যাকলিস্ট' প্রথা বাতিল ও অন্য দাবি পূরণ
কাজে ফিরলেও সাধারণ শ্রমিকদের মনে কিছু শঙ্কা ও বাড়তি প্রত্যাশা রয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো সাধারণ ও নির্দোষ শ্রমিকের নাম 'ব্ল্যাকলিস্ট' (কালো তালিকাভুক্ত) করা না হয়। তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দাবি করেছেন।
একই সাথে, মজুরি বোর্ড গঠনের পাশাপাশি তাদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক দাবিগুলোও যেন দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, সে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ও মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুতই একটি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে, যা এই অঞ্চলের পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।