সংগৃহীতঃ দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইউনিয়নে বিসিআইসি সারের ডিলার মেসার্স জান্নাতুল ফেরদাউস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রওশনারা খাতুন চলতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ইউনিয়নের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন। তাঁর স্বামী আফজাল হোসেন পাড়ালা গ্রামের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতারক বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ হাজার টাকা ও ইয়াবাসহ আফজাল হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নম্বর ৪(৩)২৬। এ ছাড়া জামালপুর সদর থানার সিআর-১৬(১)২৩ নম্বর প্রতারণা মামলায় তিনি দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ওই ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেসার্স জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিন। তাঁর বাবা আব্দুল কাশেম নাগোরঘোপ-হাসাডাঙ্গা ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকারি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। এ ছাড়া রোহিতা ও ঝাঁপা ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও বিতর্ক চলছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত সার ডিলারদের তালিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা কামারুল ইসলাম ও চিনাটোলা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লৎফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যাঁদের কারণে তাঁরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, এখন তাঁদেরই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দলের প্রতি তাঁদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
তবে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রওশনারা খাতুন ও সালাহ উদ্দিন তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই নিয়মনীতি অনুসরণ করে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, তাঁর নিজের ইউনিয়ন রোহিতায় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একই পরিবারের তিনজনের নাম সার ডিলারের তালিকায় পাঠানো হয়েছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়গুলো তদন্ত করার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।